March 2, 2026, 12:28 am
বিপ্লবী ডেস্ক ॥ বরিশাল নগরীতে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা দখলকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের নারীসহ তিনজনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের লালা দিঘীর পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি- থানায় যাওয়ার পরও তারা ন্যায়বিচার পাননি। হামলার শিকাররা হলেন- ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাদিজা বেগম, তার ছেলে হৃদয় এবং তার ভাই রুবেল। এছাড়া ঘটনায় তার আরেক ভাই রুম্মানকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খাদিজা বেগম অভিযোগে বলেন, তার ভাই রুম্মান দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার দিপু নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসা করে আসছিলেন। নির্বাচনের পরের দিন দিপু এককভাবে ওই সংযোগ দখলের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে রুম্মানের বন্ধুরা প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগে তিনি আরও জানান, ঘটনার জের ধরে দিপু তার ভাই তপু ও অপুসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের বাড়িতে আসে। তারা রুম্মান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে-এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার ছোট ছেলে হৃদয়কে ধরে নিয়ে যায়। খাদিজা বলেন, ছেলেকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং হামিদ খান সড়ক সংলগ্ন একটি কক্ষে মা-ছেলেকে আটকে রাখা হয়। এ সময় হামলাকারীরা রুম্মানকে নিয়ে এলে তবেই ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায়। এদিকে খবর পেয়ে খাদিজার আরেক ভাই রুবেল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে থানায় যাওয়ার পথে রুবেলের ওপরও হামলা চালায় অভিযুক্তরা বলে জানান ভুক্তভোগীরা ভুক্তভোগীদের দাবি, দিপু, তার ভাই অপু ও তপু এবং সহযোগী মাইনুলসহ অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং রুম্মানকে হাজির না করলে হত্যারও হুমকি দেয়। পরবর্তীতে তারা কোতোয়ালি মডেল থানায় গেলে উল্টো পুলিশ মীমাংসার কথা বলে তাদের নামে মামলা হতে পারে-এমন ভয় দেখিয়ে মুচলেকা নেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে তারা মামলা বা অভিযোগ করতে পারেননি বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রুবেল বলেন, আমরা হামলার শিকার হয়েও থানায় গিয়ে কোনো সহযোগিতা পাইনি। বরং আমাদের ভয় দেখিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। এদিকে ভুক্তভোগীরা আরও জানান- আমাদের জমিতে ব্যবসায়িক গাড়ির গ্যারেজ ছিল সেখানেও তারা হামলার পর দখলে নেয়। দখলের পর দিপুসহ তারা তিন ভাই তাদের নানা মৃত আক্কেল আলী মেম্বরের নামে স্মৃতি সংঘ নামে ব্যানার টানিয়ে দখল করে। এসব ঘটনায় ওই মেম্বারের ছেলে এবিসি হিরণের যোগসাজশ রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগে জানিয়েছেন। তারা আরও জানান, অভিযুক্তরা বিএনপি’র নাম ভাংগিয়ে এলাকায় অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছে। এমন নেতিবাচক কর্মকান্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের পাশাপাশি এলাকাজুড়ে থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে জানতে দিপুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে ভাইকে ধরিয়ে দিলে তার ভাই পুলিশের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মামুন উল ইসলাম জানান, বিষয়টি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Leave a Reply